Showing posts with label শিয়া. Show all posts
Showing posts with label শিয়া. Show all posts

Monday, 13 March 2017

ইয়েমেনের চোরা বালিতে সৌদি রাজাগন

0 Comments
ইয়েমেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা: ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র এবং এই বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এক সমৃদ্ধশালী দেশ। বাণিজ্য এবং কৌশলগত ভৌগলিক কারণে এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল পার্সিয়ান, অটোমান, ব্রিটিশ। বর্তমানের ইয়েমেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস দেখতে হলে ফিরে যেতে হবে ৭০০ শতকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। তখন ইসলামের প্রসার চলছে দিকে দিকে। খলিফা ইসলাম প্রচারের জন্য একের পর এক রাজ্য জয় করে চলেছেন। রাজ্য জয় হলে ধর্মের সাথে পাওয়া যায় প্রভাব, প্রতিপত্তি, রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ। ক্ষমতা দখল করে ইমামের উত্তরসূরি শিয়া মুসলিমরা ইয়েমেন শাসন করে আসছিল তখন। এরপরে ১১ শতকে ইয়েমেন সরাসরি খলিফার শাসনে চলে আসে। খলিফার শাসন আমলেই ইয়েমেন অটোমান সাম্রাজ্যের আক্রমণের শিকার হয়, দখল করে নেয় দেশটির দক্ষিণাঞ্চল। রুটির মত ভাগ হয়ে যাওয়া দেশটির উত্তরাঞ্চলের দখল নেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। ১৯১৮ সালে অটোমান শাসকদের কবল থেকে মুক্ত হলেও ইয়েমেন ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের কলোনি হিসেবে পরাধীনতার ঘানি ও গ্লানি বহন করেছে। তখনও ইয়েমেন দেশটি উত্তর ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইয়েমেন দুইভাগে বিভক্ত ছিল। উত্তর ইয়েমেন শিয়া আর দক্ষিণ ইয়েমেনে কমিউনিজমের চর্চা চলছিল। ১৯৯০ সালের ২২ মে ইয়েমেনের একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। এইদিন দুই ইয়েমেন মনে করে এখনই সময় সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একত্রিতভাবে একটি অভিন্ন রাষ্ট্র গঠন করা এবং পুনর্জন্ম নেয়া এই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক নাম দেয়া হয় রিপাবলিক অফ ইয়েমেন।
ইয়েমেনে কিভাবে বেজে উঠল যুদ্ধের নাকাড়া:  ২০১১ সালে আরব বসন্তে জেগে উঠল যত জীর্ণ প্রাণ। ইয়েমেনের রাজধানী সা’নায় দুর্নীতি বিরোধী শ্লোগান দিতে দিতে জড়ো হতে লাগল হাজার হাজার গণমানুষের জোয়ার। সেই জোয়ারের ঢেউতে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ভেসে যান ইয়েমেনের তখনকার প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ। সালেহ’র সহকারী আবেদ রাবো হাদি এগিয়ে আসেন শূন্য স্থান পূরণের আশায়।  গণজোয়ার কিছুদিনের মধ্যে গণরোষে পরিণত হয়। দেশজুড়ে দেখা দেয় অসন্তোষ। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত আন্দোলনের ফলে দেখা দেয় জাতীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গনরোষের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে ঢুকে পড়ে আল কায়েদার মত ভয়ানক ইসলামী সন্ত্রাসী সংগঠন। ২০১১ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে উগ্র মৌলবাদী সংগঠনটি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে কায়েম করেছে সন্ত্রাসের রাজত্ব। এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় জন্ম নেয় আরো একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। যার নাম হুতি আন্দোলন। হুতি বিদ্রোহীরা নিজেদেরকে আনসার আল্লাহ (আল্লাহর সমর্থনকারী) বলে ঘোষণা দেয়। ইয়েমেনের সরকারের বিপক্ষে দশকব্যাপী চলমান আন্দোলন করে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের শিয়া অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। এদিকে হাদির সরকারের জনপ্রিয়তা দিনকে দিন তলায় এসে ঠেকেছে। আর বিদ্রোহীরা ইয়েমেনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করছে। ২০১৪ সালে যখন হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সা’নায় প্রবেশ করে তখন প্রাণের ভয়ে প্রেসিডেন্ট আবেদ রাবো হাদি দক্ষিণাঞ্চলের শহর এডেনে পালিয়ে যান। প্রেসিডেন্ট আবেদ রাবো গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন হুতি বিদ্রোহীরা অবৈধভাবে বন্দুকের মুখে ক্ষমতা দখল করেছে। অন্যদিকে হুতি বিদ্রোহীরা প্রচার করতে লাগল সীমাহীন দুর্নীতিগ্রস্ত হাদির বিরুদ্ধে এটা সর্বাত্মক প্রতিরোধ এবং গণজাগরণ।
সৌদি আরব এবং ইরান কিভাবে যুদ্ধে যুক্ত হলো: ইয়েমেনের সাথে সৌদি আরবের ১১০০ মাইলের সীমান্ত আছে। সুতরাং ইয়েমেনে অব্যাহতভাবে শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের উত্থান সৌদি আরবের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল। সুন্নি প্রধান সৌদি আরব ইয়েমেনে শিয়া সম্প্রদায়ের উত্থানকে শিয়া অধ্যুষিত চির প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক শত্রু ইরানের ইন্ধন থাকতে পারে বলে ধারণা করে। ইরানকে উচিৎ শিক্ষা দিতে সৌদি আরব কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিশর, মরক্কো, জর্ডান, সুদান, সেনেগালকে সাথে কৌশলগত মৈত্রী গড়ে তোলে। মৈত্রীর সমর্থনে থাকল আমেরিকা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী অবস্থানে ক্রমাগত বিমান হামলা চালানো শুরু করে। এখন সৌদি আরব ইয়েমেনে যে বোমা ফেলছে তার গায়ে লেখা মেইড ইন আমেরিকা, আরবের সামরিক বাহিনী যে বিমানে বোমা বহন করে হুতিদের মাথায় আর বাসস্থানে ফেলে দিয়েছে সে বিমানগুলো কেনা হয়েছে ইংল্যান্ড থেকে, যে পাইলটরা হুতিদের মৃত্যু উপহার দিয়ে আসে তারা আমেরিকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে।বিতর্কের শুরু থেকেই ইরান হুতি বিদ্রোহীদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক বা যোগাযোগ অস্বীকার করে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাগণ দাবী করেছে ইরান, ইয়েমেনের প্রতিবেশী ওমানের মাধ্যমের অস্ত্র চোরাচালানি করেছে এবং তাদের কাছে প্রমাণ আছে। ইয়েমেনের হুতি শিয়া এবং ইরানের শিয়া একই মতাদর্শের হলেও তাদের মাঝে ধর্মীয় আচরণগত পার্থক্য আছে। ইরানের শিয়া মতাবলম্বীরা বারোজন ইমামের পরম্পরা মেনে চলেন। পক্ষান্তরে ইয়েমেনের শিয়ারা ইমাম হুসাইনের পৌত্র জায়েদ ইবনে আলীর প্রচারিত অপেক্ষাকৃত উদার নীতি আদর্শের ধর্ম চর্চা। জায়েদের অনুসারী শিয়ারা ধর্মের বিষয়ে পরিবর্তনে বিশ্বাসী এবং তারা মানুষের অতিমানবিকতায় বিশ্বাস করে না। জায়েদ পন্থী শিয়াদের বিস্তার ঘটেছে পাহাড়ি আদিবাসী গোত্র মাঝে। জায়েদ পন্থী শিয়া ইয়েমেনে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল। কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান বাস্তবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অল্প বিস্তর রাজনৈতিকভাবে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে হয়ত সামরিক দিক দিয়েও তাদের সাহায্য করে থাকে। কিন্তু বিগত ৩৫ বছরে বদলে গেছে অনেক কিছু। ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে সুন্নিদের হটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শিয়া। তারা বিভিন্ন কারণে সৌদি আরবের সাথে তিক্ত বিরক্ত। এমনকি গতবছর ইরান সরকার সেদেশের নাগরিকদের হজ্বের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তদুপরি সৌদি মনে করে ইরান ইয়েমেনের শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র, অর্থ, জ্বালানী দিয়ে সাহায্য করে। সব কিছু-মিলে সৌদি আরব ক্ষমতা হারানোর অজানা আশংকায় ভুগছে এবং ইরানকে মনে করে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে সৌদি আরব এবং ইরানের মাঝে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। যেমন তেহরান সরাসরি রাজনৈতিক এবং সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। লেবানন-ভিত্তিক শক্তিশালী ধর্মীয় সংগঠন হিজবুল্লাহকে নৈতিকভাবে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রিয়াদ সিরিয়ার বিদ্রোহী পক্ষকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, মধ্য প্রাচ্যে সৌদি আরব আর ইরানের মাঝে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের “ড্রেস রিহারসেল” চলছে ইয়েমেনে। তাই ইয়েমেনে আক্রমণ করে সম্ভাব্য শত্রু ইরানকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ঝিকে মেরে বউকে শিক্ষা দেয়া যাকে বলে আরকি।
কিভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি হবে? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট জন কেরির মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধ বিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন আবেদ রাবো হাদি। ফলে নিশ্চিতভাবেই আরব পেনিনসুলার এই অঞ্চলে অস্ত্রের ঝনঝনানি, বারুদের গন্ধ, বিমানের সাইরেন থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই। হুতি বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে আলোচনায় বসে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে রাজি আছে। কিন্তু আবেদ রাবো হাদি মনে করছেন ভবিষ্যৎ ইয়েমেন সরকার তাকে হয়ত অন্তর্ভুক্ত করবে না। এদিকে সৌদির নেতৃত্বে বিমান হামলা চলছেই, বেঘোরে মারা পড়ছে নিরীহ প্রাণ। সৌদি বাহিনী শিয়া অধ্যুষিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও বেসামরিক অঞ্চলে ব্যাপক হামলা পরিচালনা করছে। বাদ যায় নি এমনকি জানাজার নামাজে দাঁড়ানো মানুষ। এক বিমান হামলায় জানাজার নামাজে দাঁড়ানো মানুষের হামলা চালালে সেখানে মারা যায় ১৪০ জন শোকাহত শবযাত্রী। বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলে প্রথমে সৌদি আরব জানাজার নামাজে হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও পরে চাপের মুখে স্বীকার করতে বাধ্য হয়। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠলে জন কেরি বলেন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে আর সমর্থন দেবে কি না সেটা ভেবে দেখবে। যদি রিয়াদ হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা বন্ধ করে তবেই কেবল হাদির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসা যেতে পারে। জন কেরির যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবনা সময়ের হিসেবে খুব স্পর্শ কাতর। কারণ এই জানুয়ারি মাসেই নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করলেই জন কেরির মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাবে। যদি শান্তি প্রচেষ্টা ভণ্ডুল হয়ে যায় তাহলে হয়ত আবেদ রাবো হাদি, সৌদি আরব আর ওয়াশিংটনের নতুন প্রশাসনের সাথে পুরান জুয়া খেলা আবার শুরু করবে। এখন শুধু সময়ের জন্য অপেক্ষা। দীর্ঘ দিনের গৃহযুদ্ধে ইয়েমেনের অর্থনীতির মেরুদণ্ড মোটামুটি ধুলোয় মিশে গেছে। হুতি বিদ্রোহীদের সাথে কোন যোগসূত্র না থাকার পরেও অনেক বেসামরিক বাড়ি, ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্রিজ, বিদ্যুতকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনও দেখা গেছে বিয়ে বাড়ির বর যাত্রার লাইনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে মারা গেছে হতভাগা মানুষ। আরব উপদ্বীপের সবথেকে দরিদ্র দেশ ইয়েমেন। গত বছরের আগস্ট থেকে যুদ্ধ তাদেরকে বাড়ি ছাড়া করছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ সামান্য দুই মুঠ খাবারের জন্য হাহাকার করছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতালে এমনকি রাস্তাঘাটে পড়ে আছে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু। নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি, ফলে ছড়িয়ে পড়ছে মহামারী কলেরা। বিগত মাসগুলোতে রাষ্ট্র ১.২ মিলিয়ন সরকারী কর্মীর বেতন দিতে পারে নি। হায়রে ধর্মগ্রন্থ রাজনীতি! তোমার কারণে কিছুদিন আগের সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ ইয়েমেনের আজ কি অবস্থা!! আসলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল হুতি বিদ্রোহী দমন ও বিস্তার রোধ করার উদ্দেশ্যে। সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ ও উচ্চাভিলাষী চৌকশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মুহম্মদ বিন সালমান শিয়া ধর্মাবলম্বী হুতিদের নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যেই এই হামলার সূচনা। কিন্তু বিশ্লেষকগণ ভাবছেন ইয়েমেন হয়ে উঠতে সৌদি যুবরাজের ভিয়েতনাম। ইয়েমেনের ইতিহাসে বলে যে ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্র সাম্রাজ্যবাদের গোরস্থান। ১৯৬০ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদুল নাসের ইয়েমেনের শিয়া ইমামকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ করার পরেই নিজেকে দেখতে পান হাতির মত সমস্যার কাদায় আটকে গেছেন। সৌদি আরবেরও হয়ত একই দশা হবে। কারণ ইতিমধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হানাদার আরব বাহিনীর আঘাতের পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।
https://www.facebook.com/hydarihak/photos/a.382455728624579.1073741828.382453725291446/555928124610671/?type=3&theater
ইয়েমেনের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা: সৌদি আরবের সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা করুন হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দরিদ্রতম দেশ ইয়েমেন। দীর্ঘদিন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে দেশজুড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব হাহাকার চরমে। আক্ষরিকভাবে দেশটি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে যাচ্ছে। তো কেন সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক হামলা চালায়? হুতি বিদ্রোহের নামে দেশটাকে কেন তুলোধোনা করে দিচ্ছে? সৌদি আরবের বিমান হামলা দেখে মনে হয় যেন মশা মারতে কামান দাগা হচ্ছে, কিন্তু কেন?
কারণ হতে পারে ইয়েমেনের ভৌগলিক অবস্থান সৌদি আরবের পিছন দরজায় কড়া নাড়ে এবং বিদ্রোহী গ্রুপ সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তে অতর্কিত হামলা হামলা চালাতে পারে। সৌদি বিমান হামলার জবাবে হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া রকেট লাঞ্চারে সৌদি সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সৌদি-ইয়েমেন সংঘর্ষের কারণটা আসলে শুধু ভূ-রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখানে কারণের পিছনের কারণ দেখা যাচ্ছে। মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। শিয়া-সুন্নির ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব। ইয়েমেনের যুদ্ধ বুঝতে হলে বুঝতে হবে ক্ষমতার কেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া অধ্যুষিত দেশগুলোর শাসকগণ সুন্নি রাজপরিবার বা নেতা আর খুব স্বাভাবিকভাবেই তারা কোনদিন শিয়াদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আগ্রহী নয়। শিয়াদের ক্ষমতার পালা বদল ঠেকিয়ে রাখতে দরকার সামরিক আগ্রাসন। দরকার আমেরিকার বন্ধুত্ব, তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, আকাশ থেকে বোমা ফেলার জন্য বিমান আর নৌপথে অবরোধের জন্য যুদ্ধ জাহাজ।

Tuesday, 26 July 2016

ধর্মব্যবসা: যে ইতিহাস বলা নিষেধ -১

0 Comments
ভূমিকা
যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা।

শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়।
মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪)
এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশবছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র মক্কা মদীনা -- যেখানে মুহাম্মদ (সা.) এর হাতে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো, সেটা যে আজ আলে সৌদের বর্বর রাজতন্ত্রের জালে বন্দী, তা জন জানে? বেশিরভাগ মানুষই জানে না, কারন তাদের জানতে দেয়া হয় না; আর যারাও বা জানে, তাদের অধিকাংশই চুপ করে থাকে, কারণ তারা সৌদি আরবের প্রচারিত বিকৃত ইসলামের ধারক-বাহক। তেলের টাকায় এদেশের সাধারণ মানুষের মাঝে সৌদি আরবের ব্যাপারে এমন আবেগ সৃষ্টি করা হয়েছে যে, “সৌদি আরববলতেই মানুষ বোঝে মক্কা-মদীনা-কাবা, আর সৌদি আরবের যেকোনো ধরণের বিরোধিতা করা মানেই মক্কা-মদীনা, এমনকি ইসলামের বিরোধিতা করা!
মুহাম্মদ (সা.)
৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ (সা.) বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। এভাবে, মদীনায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র মক্কা পর্যন্ত বর্ধিত হলো। মক্কা-মদীনা ইসলামী শাসনের অধীনে এলো।
প্রথম চার খলিফা
মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত দশ বছর ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। এরপর যথাক্রমে হযরত আবু বকর বছর, হযরত ওমর ১০ বছর, হযরত উসমান ১২ বছর হযরত আলী বছর সেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। ইতিমধ্যে মুহাম্মদ (সা.) এর রেখে যাওয়া রাষ্ট্রের সীমানা বর্ধিত হয়েছে: অস্ত্রের মুখে সাম্রাজ্য বিস্তারেরযে অভিযান হযরত আবু বকর শুরু করেছিলেন, তা হযরত ওমর হযরত উসমান বজায় রেখেছিলেন।
উমাইয়্যা শাসন থেকে রাজতান্ত্রিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা
৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে চতুর্থ খলিফা হযরত আলীর শাহাদাতের পর ইসলামের ইতিহাস পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হতে শুরু করে, যা আজো বিদ্যমান। একটি ধারায় মুয়াবিয়া তার পরে ইয়াজিদের হাত ধরে উমাইয়্যা বংশের রাজতান্ত্রিক জুলুমের শাসন শুরু হয়। পরবর্তী একশ বছর উমাইয়্যা শাসন, তারপর প্রায় পাঁচশ বছর আব্বাসী শাসন এবং পাশাপাশি ফাতেমী শাসন আইয়ুবী শাসন চলে আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে, এবং হেজাজ (মক্কা, মদীনা সংলগ্ন কিছু অঞ্চল) এদের দখলে ছিল। এরপর প্রায় তিনশ বছর মামলুক সাম্রাজ্য তারপর প্রায় চারশ বছর ওসমানী খেলাফতের অধীনে ছিল মুহাম্মদ (সা.) এর স্মৃতিবিজড়িত পবিত্রভূমি, মক্কা মদিনা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ওসমানী খেলাফতের পতন হলে হেজাজ সংলগ্ন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ কূটচালের খেলা শুরু হয় এবং ব্রিটেনের সমর্থন সহযোগিতায় আজ থেকে প্রায় ৯০ বছর আগে ইবনে সৌদ যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, ১৯৩২ সালে তাকে আলে সৌদের নামানুসারে সৌদি আরবনামকরণ করা হয়।
যে গোত্রপ্রীতি দলবাজিকে মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের মহান নীতির মাধ্যমে বন্ধ করে গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর আরবের লোকেরা সেই গোত্রপ্রীতিকেই জাগিয়ে তোলে এবং তারই প্রতিফলন দেখা যায় উমাইয়্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী সাম্রাজ্যগুলোতে, যার সর্বশেষটা আলে-সৌদ পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। হযরত আলীর শাহাদাতের পর প্রকৃত ইসলামী শাসন আরবে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা হয়েছে তার অধিকাংশই প্রকাশ্য স্বৈরতন্ত্র, কিংবা ইসলামের মুখোশ ব্যবহার করে রাজতন্ত্র।
মজলুম আহলে বাইত থেকে ইসলামী ইরান প্রতিষ্ঠা
হযরত আলীর শাহাদাতের পর ইসলামের ইতিহাস যে দুটি ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়, তার অপর ধারাটি মজলুম আহলে বাইত তার ইমামগণের ইতিহাস, যার মাঝে কারবালার ইতিহাস সবচেয়ে বেশি মর্মান্তিক এবং সবারই জানা। হযরত আলী, ইমাম হাসান, ইমাম হোসেনসহ ইমাম হোসেনের বংশধারায় আগত বাকি নয় ইমাম -- এই বারো ইমামের মাঝে দ্বাদশ ইমাম, ইমাম মাহদী ছাড়া বাকি এগারোজনই শহীদ হন, এবং খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামকে ধরে রাখা প্রচারের স্বার্থে জুলুমের মুখে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে দেশান্তরী হন। হযরত আলী থেকে শুরু করে এই বারো ইমাম এবং তাঁদের অনুসারীগণ ইতিহাসের প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত জুলুমের শিকার হয়ে আসছেন; এবং এই জুলুমের প্রায় পুরোটাই মুসলিম নামধারীদের হাতে সংঘটিত হয়েছে হচ্ছে।
হযরত আলীর শাহাদাতের পর একদিকে ইসলামের নাম ব্যবহার করে স্বৈরাচারী রাজতান্ত্রিক শাসকেরা বিকৃত ইসলাম প্রচারের ধারা শুরু করেছিলো, যা আজো অব্যাহত আছে, অপরদিকে তেমনি আহলে বাইতের মজলুম ইমামগণ তাঁদের অনুসারীরা খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামের আলোকে সংরক্ষণ করতে গিয়ে নির্যাতনের মুখে বারবার দেশান্তরী হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, যা আজো অব্যাহত আছে।
ইসলামের ইতিহাসের এই দ্বিতীয় ধারাটি বরাবরই মজলুম ছিলো, এবং কখনোই কোনো অঞ্চলে শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালায় ইমাম হুসাইন (.) এর শাহাদাতের প্রায় তেরশবছর পর ১৯৭৯ সালে ইরানে আহলে বাইতের অনুসারী আলেমগণ ইমাম খোমেনীর (.) নেতৃত্বে বিপ্লবের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থাৎ, হযরত আলীর শাহাদাতের পর ইসলামের ইতিহাসের এই দ্বিতীয় ধারাটি প্রথমবারের মত পূর্ণ রাষ্ট্রীয় শক্তি লাভ করলো একইসাথে খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামকে শেষ করার উদ্দেশ্যে মুয়াবিয়া-ইয়াজিদের ধারার বিকৃত ইসলামের ধারক-বাহকেরা সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যাপকতর প্রচার-প্রপাগাণ্ডা শুরু করলো; যার ফলাফল হিসেবে চারিদিকে এখন অ্যান্টি ইরান অ্যান্টি শিয়া কথাবার্তা শোনা যায়, এমনকি - শোনা যায় যে, ইরান নাকি কাবা দখল করতে চায়। অথচ ইঙ্গ-মার্কিন দাস আলে সৌদ- যে বরং শত বছর ধরে কাবা দখল করে আছে, সে কথা কেউ মুখেও আনছে না।
সৌদি আরবের যে ইতিহাস কখনো বলা হয় না
(মিনা ট্র্যাজেডি, ইয়েমেনে আগ্রাসন আলে সৌদের ইতিহাস শিরোনামে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর যে আর্টিকেল লিখেছিলাম, সেখান থেকে নিচের অংশটুকু তুলে ধরছি। (লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন http://nure-alam.blogspot.com/2015/... )
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন ছিল ওসমানী খিলাফতের বিরুদ্ধে। ওসমানী খিলাফতকে খণ্ডিত করে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে হিজাজের শাসক শরিফ হোসাইনকে খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে উস্কানি দেয় ব্রিটেন। ইরান আফগানিস্তান ছাড়া গোটা আরব তখন তুর্কি খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯১৬ সালে নিজেকে আরবের সুলতান বলে ঘোষণা করেন শরিফ হোসাইন। ১৯১৮ সালে ওসমানীরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হেরে যায়। কিন্তু ব্রিটেন একইসাথে নজদ অঞ্চলের আবদুল আজিজ বিন সৌদকেও ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছিলো। ১৯২৪ সালে ব্রিটেন তার এক সেবাদাস শরিফ হোসাইনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে অপর সেবাদাস আবদুল আজিজ বিন সৌদকে হেজাজের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯২৭ সালে "জেদ্দা চুক্তিতেআবদুল আজিজ আল সৌদ ব্রিটেনকে এই মর্মে দাসখত লিখে দেয় যে, সে অত্র অঞ্চলে ব্রিটেনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও যুদ্ধ পরিচালনা করবে না, বিনিময়ে ব্রিটেন তার সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেবে। ১৯০২ সাল থেকে আরবের একটু একটু করে দখল করতে শুরু করা আবদুল আজিজ বিন সৌদ ১৯৩২ সালে তার সাম্রাজ্য বৃদ্ধি সমাপ্ত করে, এবং হিজাজসহ দখলীকৃত সংলগ্ন অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করে তার নিজ বংশের নামে "সৌদি আরবনাম রাখে। এভাবেই মুসলিম জাতির পবিত্র আবেগের স্থান হিজাজ (মক্কা মদীনা) ব্রিটিশ প্রভাবের অধীন হয়ে গেল। এটাই হলো বর্তমান সৌদি আরবের রাজনৈতিক ইতিহাস। আর ধর্মীয় দিক থেকে আবদুল আজিজ বিন সৌদ ওয়াহাবী মতবাদকে তার দখলীকৃত এলাকার (বর্তমান সৌদি আরবের) মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়।
এরপর বিগত প্রায় একশত বছর ধরে ব্রিটিশ মার্কিন সেবাদাস এই আলে সৌদ তেলের টাকায় বিশ্বব্যাপী তাকফিরি ওহাবী ইসলামের প্রচার করেছে যা সুন্নি মাযহাবগুলোকে ক্রমশঃ গ্রাস করছে। ১৯১৭ সালের "ব্যালফোর ঘোষণায়আবদুল আজিজ বিন সৌদ এর কাছ থেকে ব্রিটেন লিখিত সম্মতি আদায় করে যে, ফিলিস্তিন দখল করে ব্রিটেন যদি ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, তবে তাতে সে আপত্তি জানাবে না। পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে এই আবদুল আজিজ বিন সৌদকেই তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। ১৯৪৮ সালে প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ সহযোগীতায় ফিলিস্তিন দখল করে জন্ম হয় যায়নবাদী ইসরাইলের।
সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ বিন সৌদ ব্রিটেনকে যে দাসখত লিখে দিয়েছিলেন, তা ছিল এই:
আমি বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে আবদুর রহমান ফয়সলের বংশধর সৌদের বংশধর হাজারবার স্বীকার করছি জেনেশুনে বলছি যে, মহান ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাস-এর সামনে স্বীকারোক্তি করছি এই মর্মে যে, গরিব ইহুদিদেরকে বা অন্য কাউকে ব্রিটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিনদান করে দেন তাহলে এতে আমার কোনো ধরনের আপত্তি নেই। বস্তুতঃ আমি কিয়ামত পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না।” (নাসিরুস সাইদ প্রণীত আলে সৌদের ইতিহাস’)
কেন সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিছিল করা হারাম ফতোয়া দেন, কিংবা তাকফিরি ISIS কেন শুধু মুসলমানদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে যাচ্ছে, অথচ জুলুমবাজ ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি গুলিও ছুঁড়ছে না, তা বুঝতে হলে এই ইতিহাসটি কাজে লাগবে। ১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে আর ইসরাইল-আমেরিকার বিপক্ষে শ্লোগান দেয়া হাজীদের কেন তারা হত্যা করেছিল, তা বুঝতে হলেও এই ইতিহাস জানতে হবে।
ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় পরোক্ষ সহযোগিতা করা, আল্লাহর মেহমান সম্মানিত হাজীদের ক্রেন ফেলে হত্যা করা, গুলি করে হত্যা করা, রাস্তা বন্ধ করে পদপিষ্ট করে করে হত্যা করা, রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করায় আয়াতুল্লাহ নিমরকে হত্যা করা, আমেরিকা, মিশর, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব-আমিরাতকে নিয়ে মাসের পর মাস ইয়েমেনে বোমা হামলা করে নিরপরাধ নারী-শিশু হত্যা করা, ইসলামী বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে মানুষ হত্যা করে যাওয়া, অগুনতি রক্ষিতাকে নিয়ে আলে-সৌদের অস্বাভাবিক বিকৃত যৌনাচার ভোগবিলাস -- আলে সৌদের ইসলামীকর্মকাণ্ডের কি আরো তালিকা করতে হবে? এই তালিকা শুরু করলে তো শেষ হবে না। তবু যদি আলে সৌদের দালাল ধর্মান্ধদের বিবেক একটু খুলত!
 “ইসলামপন্থীদেরনীরবতা
মদীনা ইউনিভার্সিটি, সৌদি পেট্রোডলার, জাকির নায়েকের বিশাল এস্টাবলিশমেন্ট এবং সর্বোপরি ইন্টারনেটের কল্যাণে ইসলামের নানান বিষয় চারিদিকে ভেসে বেড়াচ্ছে। শরীয়া, হাদীস, তাফসির, ইসলামের বিভিন্ন ইতিহাস, অতীত-বর্তমান রাজনীতি -- সব, সব। কিন্তু সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসটাই কেবল কেউ উচ্চারণ করে না! আমি অনেক দেখেছি। এদেশের ইসলামপন্থী লোকজন, বিভিন্ন গ্রুপ, দল -- এরা জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস চেপে যায়। কারণ এদের অধিকাংশকেই সৌদি আরব টাকা দিয়ে কিনে রেখেছে।
কেবল সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জানাটাই এই সিদ্ধান্তে আসার জন্য যথেষ্ট যে, সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় যে ইসলাম প্রচার হয়, তা প্রকৃত ইসলাম নয়, তা বিকৃত ইসলাম; অতএব প্রকৃত ইসলাম আমাদের খুঁজে নিতে হবে। বর্তমান সৌদি সরকার সরাসরি আমেরিকা-ব্রিটেন-ইসরাইলের সেবাদাস। মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসাকে ইসরাইল সরাসরি দখল করে রেখেছে, আর দ্বিতীয় কিবলা কাবাকে দখল করে রেখেছে পরোক্ষভাবে, আলে সৌদের মাধ্যমে। আল-আকসা মুক্ত করার চেয়ে মক্কা-মদীনাকে আলে সৌদের হাত থেকে মুক্ত করা কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এতকিছু জেনে বুঝেও আমাদের দেশের ইসলামপন্থীরা নীরব কেন? জামায়াত-শিবির, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, আল্লামা শফি, হাটহাজারী মাদ্রাসা, যত কওমী মাদ্রাসা, যত আলিয়া মাদ্রাসা, যত ইসলামী চ্যানেল, পিস টিভি -- কই, কোথাও তো কেউ একথা বলছে না। উমাইয়্যা শাসন, আব্বাসী-ওসমানী খেলাফত -- এতকিছুর ইতিহাস পড়াচ্ছে, আলোচনা করছে, কখনোতো ব্যালফোর ঘোষণা আর জেদ্দা চুক্তির নাম উচ্চারণ করছে না! কখনোতো বলছে না ব্রিটেনের সহায়তায় সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস! অথচ (আল্লাহ না দিলেও) তারা ইসলামের ঠিকাদারী নিয়ে নিয়েছেন! ইসলামের প্রচার-প্রসার আলোচনা করার দায়িত্ব নিজে থেকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন, এবং তারপর জেনেশুনে সৌদি আরবের নোংরা ইতিহাস গোপন করছেন। যাহোক, কেন তারা একাজ করছেন, এই নিয়ে পরের পর্বে আলোচনা করব, তবে তার আগে সৌদি তেলের টাকায় বিশ্বব্যাপী প্রচারিত ওহাবী ইসলাম, শিয়া-সুন্নি পার্থক্য ইরানের ইসলামী বিপ্লবসহ কয়েকটি বিষয়ের উপর একইভাবে সংক্ষেপে কিছু কথা বলব, ইনশাআল্লাহ।

 
back to top